হবিগঞ্জ, ২ সেপ্টেম্বর: ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে জরুরি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। রোগীর অতিরিক্ত চাপের বিপরীতে চিকিৎসক-নার্স ও জনবল সংকট, ওষুধ ও শয্যার স্বল্পতা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে কাঙ্ক্ষিত সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর বহির্বিভাগে ৩ লাখের বেশি এবং অন্তর্বিভাগে ২ লাখের বেশি রোগী চিকিৎসা নেন। অথচ বিভিন্ন ওয়ার্ডে নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে যায়। ফলে অনেক রোগীকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হয়।
চলতি অর্থবছরে ওষুধ বাবদ প্রায় ৪ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। বিপুলসংখ্যক রোগীর তুলনায় এ বরাদ্দও অপ্রতুল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতির সংকট ও পুরোনো যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকায় রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা বাইরে করাতে হচ্ছে।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রী সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন এমপি হাসপাতাল পরিদর্শন করে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পরিদর্শনের পর হাসপাতালের সংকটগুলো দ্রুত সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সচেতন মহলের মতে, হাসপাতালের সংকট সমাধানে শুধু কর্তৃপক্ষকে দায়ী না করে সরকার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসক, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। বছরে ৫ লাখের বেশি মানুষের নির্ভরশীল এই হাসপাতালকে আধুনিক ও মানসম্মত সেবার উপযোগী করে গড়ে তুলতে জনবল, শয্যা, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বাড়ানোর পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “চিকিৎসক, নার্সসহ হাসপাতালের জনবল ও অন্যান্য সংকটের বিষয়গুলো জানিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত চিঠি দেওয়া হচ্ছে। আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।” স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে হাসপাতালটিকে পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও জনবান্ধব চিকিৎসাকেন্দ্রে রূপান্তর করা হোক।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

মীর কাদির :